আফগান সেনানায়ক বখতিয়ার খিলজি অতর্কিত আক্রমণে নদীয়া দখল করেন।
কবির বক্তৃতাশক্তি সহজাত নয়, তাঁদের কণ্ঠে বাণী ক্ষীণ ঝরনাধারার মতো বয়ে চলে।
কাজী নজরুল ইসলামের মতে, মুসলিম তরুণদের আশা- কবি দিগ্বিজয়ী বাগ্মীর মতো অনর্গল বক্তৃতা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে দেবেন। কিন্তু মঞ্চে দাঁড়িয়ে কবি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানান যে, তিনি পেশাদার বস্তা নন। যাঁরা খ্যাতনামা বস্তা, রাজনীতিক- তাঁদের মুখে ছোটে কথার ফুলঝুরি। তাঁদের সেই অসাধারণ বাগ্মিতায় কবি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়েন। তাঁদের মতো বক্তব্য তিনি দিতে পারেন না। কারণ কবিদের বক্তৃতাশক্তি সহজাত নয়, তাঁদের কণ্ঠে মৃদু ভাষা ধ্বনিত হয়।
যৌবনের-গান' প্রবন্ধের অদম্য ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার সাথে উদ্দীপকের যৌবনের প্রকৃতি সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রাবন্ধিক তাঁর 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বলেছেন, মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় রেখে জাতীয় কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আশাহীন, বলহীন জাতিকে তারা আশার বাণী শোনায়। প্রাণচঞ্চল সৃজনশীল সেই শক্তিকে প্রাবন্ধিক যৌবন বলে আখ্যায়িত করেন এবং তার জয়গান করেন। কামাল, মুসোলিনি, লেনিনের শক্তিই হলো তারুণ্যের শক্তি।
উদ্দীপকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কবীরের মধ্যে ছিল তারুণ্যের শক্তি। তাই সে দেশের নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সে বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করে। সে জানে যুদ্ধে মৃত্যু অনিবার্য, তবু ভয় পায় না। যৌবনশক্তির প্রকৃত ধারক হয়ে সে দেশের বঞ্চিত মানুষদের মুক্তি ছিনিয়ে আনতে নির্ভীক চিত্তে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। আলোচ্য প্রবন্ধ মতেও দুরন্ত ইচ্ছাশক্তি, নির্ভীকতা, দুর্বার আকাঙ্ক্ষা ও সেবায় আত্মোৎসর্গই যৌবনের ধর্ম। তাই উদ্দীপকের যৌবনের প্রকৃতির সঙ্গে' বঙ্গে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের সাদৃশ্য লক্ষ।
করা যায়।
যৌবনের গান' প্রবন্ধের সেবাপরায়ণ প্রশস্তিময় দুরন্ত-দুর্বার যৌবনই প্রশ্নোক্ত উক্তিটির প্রাণশক্তি।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বলা হয়েছে, তরুণরাই নতুনকে বরণ করে নিতে পারে, তারাই পারে মানুষের সুখ-শান্তি ও মুক্তি নিশ্চিত করতে। তাদের মধ্যেই একটি দেশের প্রাণের স্পন্দন পাওয়া যায়। তারুণ্যের শপথ হলো, পৃথিবীকে তারা তাদের মনের মতো করে গড়ে নিবে। যৌবনে উদ্দীপ্ত তরুণেরা কখনো পিছু ফিরে তাকায় না, সামনে যাওয়াই তাদের কাজ।
উদ্দীপকের কবীরের প্রশ্নোক্ত উক্তিতে তার বিপুল প্রাণশক্তির দিকটি লক্ষ করা যায়। কবীর তারুণ্যের দুর্বার ব্যক্তিত্ব বলেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি চিঠিতে লিখতে পেরেছে। নির্ভীক চিত্তের অধিকারী কবীর অপ্রতিরোধ্য তারুণ্যের ধারক ও বাহক।
উদ্দীপকের কবীরের উক্তিটি যেন আলোচ্য প্রবন্ধের তারুণ্যের জয়গান গায়। প্রাবন্ধিক কবীরের মতোই প্রাণশক্তি ও ব্যক্তিত্বের জয়গান গেয়েছেন। কবীরদের মতো তরুণদের দলেই কবি থাকতে চেয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে তারুণ্যের নির্ভীক ও সেবাপরায়ণ চেতনা প্রস্ফুটিত হয়েছে যা, 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের লেখকের চেতনাকে ধারণ করে।
Related Question
View Allগানের পাখিকে তাড়া করে বায়স-ফিঙে।
উদ্ধৃতাংশে ধ্যানী বলতে মূলত যাঁরা অন্তরালে থেকে সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন তাঁদের বোঝানো হয়েছে।
তরুণদের এক সভায় আমন্ত্রিত হয়ে প্রাবন্ধিক তারুণ্যের জয়গান করে ভাষণ প্রদান করেন। সে সভায় তিনি দৃপ্তকণ্ঠে উচ্চারণ করেন, যৌবনশক্তি সংকীর্ণ জাতিগত ধর্মের মধ্যে সীমিত নয়; তা বিশ্বজনীন উদার মানবধর্মের ব্রতে আত্মনিষ্ঠ। মানবকল্যাণে নিবেদিত এ তরুণেরা বড়ো বড়ো কথা বলে আস্ফালন করে বেড়ায় না, বরং নীরব সাধনায় ফুল ফোটানোর মতো সুকঠোর ব্রত পালন করে। তরুণদের এ সাধনাকে ধ্যানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। প্রাবন্ধিক তাই বলেছেন, তিনি আজ তাঁদেরই দলে, যাঁরা কর্মী নন, ধ্যানী।
উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের মাতৃরূপের প্রতিফলন ঘটেছে।
তরুণদের সমাজসেবামূলক কাজকে প্রাবন্ধিক যৌবনের মাতৃরূপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মা যেমন সন্তানকে সমস্ত অকল্যাণ থেকে আগলে রাখে তেমনই যৌবন মাতৃরূপে মানবসমাজকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করে। মায়ের মতো স্নেহ ও মমতা নিয়ে যৌবনধর্ম দুর্বল ও দুর্দশাগ্রস্তের পাশে দাঁড়ায়। উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের কর্মকাণ্ডে যৌবনের এ কল্যাণকামী বৈশিষ্ট্যই লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের ফারুক সাহেব যৌবনধর্মে উদ্দীপ্ত হয়ে সমাজের কল্যাণে আত্মনিবেদন করেছেন। মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি বাল্যবিবাহ রোধে ভূমিকা রাখেন এবং মেয়েদের স্কুলে পাঠান। এভাবেই তিনি দুর্বলের ও অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের কর্তব্য সাধন করেন। তার এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের মাতৃরূপটি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। অবসরপ্রাপ্ত ফারুক সাহেব বয়সের জালে বন্দি হলেও মনকে অবমুক্ত করে রেখেছেন। তিনি রাস্তার দুধারে গাছ লাগান, রাস্তার গর্ত ভরাট করেন। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে পাঠানোসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করেন। মানবকল্যাণে কাজ করতে তার কোনো ক্লান্তি নেই। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধেও এসব কর্মকাণ্ডের মানসিকতাকে তারুণ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
যৌবনের গান' প্রবন্ধের চেতনানুযায়ী অফুরন্ত প্রাণশক্তি উদ্দীপকের বয়স্ক ফারুক সাহেবের মাঝে লক্ষ করা যায়।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে কবি কাজী নজরুল ইসলাম দুরন্ত-দুর্বার যৌবনের জয়গান গেয়েছেন। যৌবন মানুষের জীবনকে গতিশীল, সেবাব্রতী ও প্রত্যাশাময় করে তোলে। কাজী নজরুল ইসলামের মতে, যৌবনকে বয়স দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যায় না। একজন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিও প্রাণশক্তির দিক থেকে যৌবনপ্রাপ্ত হতে পারে। আবার বয়সে তরুণ একজন ব্যক্তি যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কালমূর্তিকে ধারণ করতে পারে। মূলত মানুষের প্রাণশক্তি ও কর্মোদ্যম দ্বারাই যৌবন বা বার্ধক্য নির্ধারিত হয়।
উদ্দীপকের ফারুক সাহেব বয়সে বৃদ্ধ হলেও চিন্তা-চেতনা ও কর্মের দিক থেকে যুবক। কর্ম থেকে অবসর নিলেও তিনি বিভিন্ন ধরনের যৌবনের গান' প্রবন্ধে যৌবনের যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে, উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের মধ্যে তার সবই বিদ্যমান। আলোচ্য প্রবন্ধানুসারে বয়স দ্বারা নয়; বার্ধক্যকে সংজ্ঞায়িত করা হয় রক্ষণশীলতা, জড়তা, সংস্কারাচ্ছরাতা ও পশ্চাৎপদতা দ্বারা। আর যার মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্য থাকে না, তাকে বয়স বেশি হওয়া সত্ত্বেও 'বার্ধক্য আক্রান্ত' বলে অভিহিত করা যায় না। তাই 'যৌবনের গান' প্রবন্ধ অনুসারে, ফারুক সাহেবের বার্ষকাকেও বয়সের ফ্রেমে বেঁধে রাখা সম্ভব হয়নি।
বনের পাখির মতো গান করা কবির স্বভাব
কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন কারণ তারা সকল ধর্মের, সকল দেশের, সকল জাতির ও সর্বকালের হয়ে মানবকল্যাণে কাজ করে থাকে।
ঘুণেধরা সমাজকে বসবাসের উপযোগী করে সুখ-সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তরুণেরা কুসংস্কার, অনাচার ও বার্ধক্যের মূলোৎপাটন করে। জাতিকে স্বপ্নময় নতুন সমাজ উপহার দিতে তারা জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দেয়। এভাবে অন্ধকারকে দূর করে জগৎকে আলোকিত করে বলেই তাদের আদশ হিসেবে গ্রহণ করে কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!